রাজধানী ঢাকায় আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করার ফলে অপরাধের প্রকৃত ভয়াবহতা ও পরিসংখ্যান আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে দস্যুতার মামলা হয়েছে ১৪৯টি এবং ডাকাতির ১৮টি। তবে ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের বিশ্লেষণে দেখা যায়, থানা পুলিশ প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনায় ‘ফোন হারানোর’ জিডি দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিদায় করে দেয়, যা সরকারি অপরাধ রেকর্ডে প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত হতে দেয় না।
গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ২২টি আলোচিত ও গুরুতর ছিনতাইয়ের ঘটনা বিশ্লেষণে অন্তত ২৬ জন সরাসরি ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬ জন নারী হলেও ছিনতাইকারীদের হ্যাঁচকা টানে চলন্ত রিকশা বা অটোরিকশা থেকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন নারী। সর্বশেষ ২৯ আগস্ট ভোরে বগুড়া থেকে ঢাকায় এসে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর ব্যাগের টানে রিকশা থেকে পড়ে মারা যান শিক্ষক রনজিলা পারভিন।
বিশ্লেষণে ছিনতাইকারীদের চারটি প্রধান কৌশল চিহ্নিত হয়েছে:
- ১. চলন্ত যান থেকে ব্যাগ টান: মোটরসাইকেল বা সিএনজি থেকে রিকশা বা অটোরিকশার যাত্রীর ব্যাগ ধরে টান দেওয়া (যা সবচেয়ে প্রাণঘাতী)।
- ২. অস্ত্রের মুখে পথরোধ: ২ থেকে ৬ জন দলবদ্ধ হয়ে পথচারীকে ঘিরে ধরে ছুরি, চাপাতি বা পিস্তল দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়া।
- ৩. নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু (ক্যাশ ফলোয়িং): ব্যাংক, পেট্রলপাম্প বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বড় অংকের নগদ টাকা বহনকারীদের আগে থেকে রেকি করে আক্রমণ করা।
- ৪. আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি: নির্জন স্থানে নিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বা স্বজনদের ফোন করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৭৭ শতাংশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। কেবল রাতের আঁধারেই নয়, দিনের যেকোনো সময়েই এসব অপরাধ ঘটছে। মোট ছিনতাইয়ের ঘটনার প্রায় ৬৮ শতাংশ ঘটছে ভোররাত থেকে সকাল ৯টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টার মধ্যে। দূরদূরান্ত থেকে বাস বা ট্রেনে ঢাকায় নেমে গন্তব্যে ফেরার পথেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন যাত্রীরা। ভৌগোলিক বিচারে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ (মোহাম্মদপুর, আদাবর, শেরেবাংলা নগর ও তেজগাঁও) ছিনতাইয়ের সবচেয়ে বড় হটস্পটে পরিণত হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে ৮৮টি নতুন চেকপোস্ট ও নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে সাধারণ পথচারীরা অভিযোগ করছেন, পুলিশের পর্যাপ্ত নজরদারি ও কার্যকর টহল না থাকায় রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সূত্র: প্রথম আলো

