যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়ায় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। এর আগে টানা দুই দিন দাম বাড়লেও নতুন মজুতের খবরে সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা থেমে গেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এখনো বাজারে বড় উদ্বেগ হিসেবে রয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলার ২ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ ডলার ১০ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৪ শতাংশ কমে ১০৪ ডলার ৭৩ সেন্টে দাঁড়ায়।
এর আগে মঙ্গলবার ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের তেলের দাম ৩ ডলারের বেশি বেড়েছিল। একই সঙ্গে দাম গত ১৯ মে’র পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে তেল ওঠানো বন্ধ এবং ইউরোপে সৌদি তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল, পেট্রল ও পরিশোধিত জ্বালানির মজুত বেড়েছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটিতে অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়েছে ৭১ লাখ ব্যারেল। অথচ বিশ্লেষকেরা প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল মজুত কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
পেট্রল ও ডিজেলের মজুতও প্রত্যাশার বিপরীতে বেড়েছে। ফলে তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। তবে হাইটং ফিউচার্সের মতে, আঞ্চলিক মজুত বাড়লেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ পরিস্থিতির মূল সংকট এখনো কাটেনি।
ফিলিপ নোভার বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেবা বলেন, মজুত বৃদ্ধির কারণে চাপ থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাই এখনো ব্যবসায়ীদের প্রধান উদ্বেগ। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ও ইয়ানবু বন্দরের তেল রপ্তানি অবকাঠামোয় হামলার পর পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে মঙ্গলবার ইউরোপে ডিজেলের ফিউচার দর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শুক্রবার ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতিদের হামলার পর সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ করে দেয়। এরপর ইয়ানবু বন্দরে তেল ওঠানোও বন্ধ রাখা হয়েছে।
বুধবার জানা গেছে, সৌদি আরব ওমানের সোহার বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে অপরিশোধিত তেল পাঠানোর চেষ্টা করছে। লোহিত সাগরের দিকে থাকা গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর বিকল্প এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও কমেছে। মঙ্গলবার প্রণালিটি দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে আগের দিন এ সংখ্যা ছিল সাতটি। গত ১০ দিনের গড় ছিল ১৮টি জাহাজ।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। সাম্প্রতিক হামলা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সূত্র: রয়টার্স/শাফাক নিউজ

