সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ধান ও চালের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। চালের দাম কমায় ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও ধানের দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের বিক্রিমূল্য কম হওয়ায় অনেক কৃষকের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এসব এলাকার স্থানীয় বাজার ও মোকামে বিভিন্ন ধরনের ধানের দাম কমেছে। বিশেষ করে মৌসুমি ধানের ক্ষেত্রে দরপতনের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। ধানের পাশাপাশি পাইকারি পর্যায়ে চালের দামও কিছুটা কমেছে। ফলে একদিকে কৃষকেরা উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে চালের বাজারে কমতির প্রভাব পড়ছে খুচরা পর্যায়েও।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, চালের চাহিদা কমে যাওয়া, বাজারে পর্যাপ্ত মজুত থাকা এবং পাইকারি পর্যায়ে বেচাকেনা কমে যাওয়ার কারণে ধান ও চালের দামে চাপ তৈরি হতে পারে। চালের বিক্রি কমে গেলে মিল ও ব্যবসায়ীরা নতুন করে ধান কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকেন। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে কৃষকের ওপর।
সিলেট বিভাগের শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার এলাকার কৃষকেরা জানান, ধান উৎপাদনে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের খরচসহ সামগ্রিক ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের বাজারমূল্য কমে গেলে উৎপাদন খরচ তুলে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় কম দামেই ধান বিক্রি করছেন।
ধানের দাম কমার পাশাপাশি চালের দামও নিম্নমুখী হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তবে কৃষকেরা বলছেন, চালের দাম কমার সুফল ভোক্তারা পেলেও ধানের দাম কমে যাওয়ার চাপটি মূলত কৃষকদেরই বহন করতে হচ্ছে। উৎপাদন পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কৃষকের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি বাজারে অস্বাভাবিক দরপতন ঠেকাতে সরকারি পর্যায়ে ধান-চাল সংগ্রহ, বাজার তদারকি এবং মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ জোরদার করা প্রয়োজন। এতে একদিকে কৃষক উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাবেন, অন্যদিকে ভোক্তাদের জন্যও স্থিতিশীল বাজার নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।

