সেনাবাহিনী ও বিলুপ্ত র্যাবের সদস্য পরিচয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ইঞ্জিনিয়ার বিএম ইব্রাহিম ওরফে ‘তালা ইব্রাহিমকে’ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইব্রাহিমের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান। তিনি জানান, ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে কয়টি মামলা রয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাবেক নেতা বা কর্মী ছিলেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য, ইব্রাহিম যুবদলের পদধারী নেতা ছিলেন। তবে গত ৫ আগস্টের পর নানা অপকর্মের অভিযোগে তাকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তির বাসায় তালা মেরে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ কারণে এলাকায় তিনি ‘তালা ইব্রাহিম’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে গণধর্ষণসহ আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় ইব্রাহিমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন জাহিদ হাসান (২৭) নামে এক ব্যবসায়ী। মামলায় ইঞ্জিনিয়ার বিএম ইব্রাহিম (৩৬) ও দীপক (৩৬) নামে দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ওই বাসায় থাকা এক নারী সহকর্মীর জন্য খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন বাদী। এ সময় অভিযুক্তরা নিজেদের সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্য পরিচয় দেন। তাদের হাতে ওয়াকিটকি এবং পরনে সিভিল পোশাক ছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা তার ব্যবসায় বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি রয়েছে দাবি করে তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা চান। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পরে আরও টাকা সংগ্রহের জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ওই বাসায় থাকা দ্বিতীয় সাক্ষীর কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা ও বাদীর হাতঘড়ি নিয়ে নেওয়া হয়। অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় দ্বিতীয় সাক্ষীকে টানাহেঁচড়া ও মারধর এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।
পরে বাদী ও সাক্ষীকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে দ্রুত আরও টাকা সংগ্রহ করতে বলা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তিনি কৌশলে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসাটির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। পরে সাক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে আশপাশের লোকজনকে ফুটেজে থাকা ব্যক্তিদের দেখানো হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইব্রাহিম ও দীপকের নাম ও মোবাইল নম্বর পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্য আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় এসে মামলা করায় বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

