চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইডিআই)। ‘ইউজড কার পার্টস’ বা ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে একটি কন্টেইনারে আনা হয়েছে বিএমডব্লিউ স্পোর্টস/রেসিং কার, বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়ির সামনের অংশ এবং পাঁচটি ইসুজু ট্রাক।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এর আগে সোমবার (৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দরে সন্দেহভাজন একটি চালান কায়িক পরীক্ষা করে কাস্টমস গোয়েন্দার একটি দল। এ সময় ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের গরমিল ধরা পড়ে।
এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আলামিন শেখ জানান, চট্টগ্রামের হালিশহরের মেসার্স আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল (বিআইএন: ০০৪৫৮৯০০৫-০৫০৩) সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি এলএলসি’ থেকে চালানটি আমদানি করে। এর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে রয়েছে চট্টগ্রামের ডবলমুরিংয়ের ‘আমিন সিঅ্যান্ডএফ (প্রাইভেট) লিমিটেড’ (আইএন: ৩০১০৪৩০১২১)।
চালানটির বিল অব লেডিংয়ে ‘ইউজড ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি’ ও ‘ইউজড পাওয়ার স্টিয়ারিং অ্যাসেম্বলি’সহ বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে কায়িক পরীক্ষায় ঘোষিত পণ্যের পরিবর্তে বিভিন্ন গাড়ি ও গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাওয়া যায়।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, কন্টেইনারের ভেতর সম্পূর্ণ নকডাউন (সিকেডি) অবস্থায় দুই আসনের একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস/রেসিং কার পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি ২০০৯ সালের ‘এস ড্রাইভ ২৩আই’ মডেলের। এর ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি।
এ ছাড়া বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ ৭৪০আই মডেলের একটি গাড়ির সামনের অংশ বা হাফ-কাট পাওয়া গেছে। ২০১৬ সালের এ গাড়িটির ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার সিসি। গাড়িটির বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে আনা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কন্টেইনারে ঘোষণার বাইরে আরও পাঁচটি হাফ-কাট ইসুজু ট্রাক পাওয়া গেছে। এসব ট্রাকের কেবিনের ভেতরে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, আমদানি নীতি লঙ্ঘন করে কাটা গাড়ি বা গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ আলাদা চালানে এনে পরবর্তী সময়ে পুনঃসংযোজনের কোনো সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়িটির বাকি অংশের সন্ধানে অন্যান্য চালানের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
উদ্ধার করা পণ্যের বিস্তারিত ইনভেন্টরি, চেসিস বা ভিআইএন নম্বর, ইঞ্জিনের তথ্য, প্রকৃত মূল্য এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর নির্ধারণের পর ‘কাস্টমস অ্যাক্ট, ২০২৩’সহ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে অবৈধ গাড়ি বা যন্ত্রাংশ আমদানির প্রচেষ্টা ঠেকাতে কাস্টমস গোয়েন্দার নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

