আলো ও অন্ধকারের চিরন্তন লড়াইয়ে আলোর বিজয়ের বার্তা নিয়ে আজ উদ্যাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্যামা পূজা ও দীপাবলি। আজ ৮ নভেম্বর, রবিবার কার্তিক অমাবস্যায় দেবী কালীর আরাধনা ও দীপাবলি উদ্যাপনে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও সনাতনী জনপদ।
দেবী কালী শক্তি, সাহস ও অশুভ বিনাশের প্রতীক। শাক্ত উপাসনায় তিনি জগজ্জননী, মহাকালী ও মহামায়া হিসেবে পূজিত হন। তাঁর আরাধনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা জীবনের ভয়, সংকট ও অকল্যাণ থেকে মুক্তি এবং পরিবার ও সমাজের মঙ্গল কামনা করেন।
পুরাণে দেবীর অসুরবিনাশী রূপের বর্ণনা রয়েছে। দেবী মাহাত্ম্যে চণ্ড-মুণ্ড ও রক্তবীজ বিনাশের কাহিনি দেবীশক্তির মহিমা তুলে ধরে। দেবীর হাতে থাকা খড়্গ অন্যায় ও অজ্ঞানতার বিনাশের প্রতীক। আর অভয়মুদ্রা ভক্তদের মনে সাহস ও আশ্রয়ের অনুভূতি জাগায়।
কার্তিক অমাবস্যার মহানিশায় শাক্ত রীতি অনুযায়ী দেবী কালীর পূজা করা হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতায় থাকে মন্ত্রোচ্চারণ, পুষ্পাঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও আরতি। অনেক মন্দিরে রাতভর চলে ভজন-কীর্তন ও ধর্মীয় সংগীত। ভক্তরা জবা ফুল, ফলমূল ও মিষ্টি নিবেদন করে দেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
শ্যামা পূজার সঙ্গে একই সময়ে পালিত হয় দীপাবলি। প্রদীপের সারি দিয়ে ঘরবাড়ি, মন্দির ও পূজামণ্ডপ সাজিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের আনন্দ প্রকাশ পায়। উপনিষদের ‘তমসো মা জ্যোতির্গময়’ বাণী দীপাবলির আধ্যাত্মিক ভিত্তিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এর অর্থ—অন্ধকার থেকে আলোতে উত্তরণ।
দীপাবলি শুধু আলোকসজ্জার উৎসব নয়; এটি মানুষের অন্তরে জ্ঞান, বিবেক, সত্য ও শুভবোধ জাগিয়ে তোলার প্রতীক। ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই উৎসবের সঙ্গে লক্ষ্মীপূজা ও শ্রীরামের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনসহ নানা ধর্মীয় ঐতিহ্য যুক্ত রয়েছে। বাংলায় কার্তিক অমাবস্যার অন্যতম প্রধান আয়োজন শ্যামা পূজা।
নওগাঁর পিরোজপুর (দুবলহাটী) এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্যামা পূজা ও দীপাবলি উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মন্দির ও পূজামণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার পাশাপাশি পূজা, আরতি, প্রসাদ বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
ধর্মীয় এই উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করারও সুযোগ সৃষ্টি করে। হিংসা, বিদ্বেষ ও অন্যায় দূর করে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দেওয়াই হোক এবারের দীপাবলির প্রত্যয়। একই সঙ্গে শব্দ ও বায়ুদূষণ এড়িয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে উৎসব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

