বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে নাটকীয় ও বিতর্কিত এক ঘটনার জন্ম দিলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সান্তোসের হয়ে সিরি-এ ম্যাচে আবেগ, ক্ষোভ ও হতাশায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় তাকে।
সোমবার ঘোষণা করা হবে ব্রাজিলের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল। যদিও কোচ আনচেলত্তি এর আগে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াডে নেইমারের নাম রেখেছিলেন, তবে চূড়ান্ত দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
২০২৩ সালের অক্টোবরে চোটে পড়ার পর থেকে ব্রাজিলের জার্সিতে আর মাঠে নামা হয়নি নেইমারের। একের পর এক ইনজুরি ও ফিটনেস সমস্যায় ক্যারিয়ারের কঠিন সময় পার করছেন তিনি। এমনকি গত মার্চের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতেও জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছিলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কারণে চলতি মৌসুমে সান্তোসের প্রথম ১২টি ম্যাচেও খেলতে পারেননি তিনি।
তবে ফেব্রুয়ারিতে মাঠে ফেরার পর থেকে নিয়মিত খেলেই নিজের ফিটনেসের প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন নেইমার। ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করা এই তারকা আগের তিনটি বিশ্বকাপেও দলের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন।
রোববার করিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য সান্তোস ৩–০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে যায়। ম্যাচজুড়ে হতাশ ও উত্তেজিত ছিলেন নেইমার। জাতীয় সঙ্গীত চলাকালে তাকেই আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়। বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে মানসিক চাপই এর পেছনে কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে ঘটে সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা। বদলি বোর্ডে ভুলবশত অন্য খেলোয়াড়ের পরিবর্তে নেইমারের জার্সি নম্বর দেখানো হয়। মূলত ডিফেন্ডার গনজালো এসকোবারকে উঠিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও ভুলক্রমে নেইমারের নম্বর প্রদর্শিত হয়। সে সময় নেইমার সাইডলাইনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
রেফারির সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়ে মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান নেইমার। পরে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং একটি হলুদ কার্ডও দেখেন। সান্তোস কোচ কুকা ও নেইমার বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে বদলি কার্যকর হয়ে যাওয়ায় সিদ্ধান্ত আর পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি।
ক্ষুব্ধ নেইমার পরে ডাগআউট থেকে বদলির অফিসিয়াল কাগজ হাতে নিয়ে ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন, যাতে বোঝা যায় বদলির তালিকায় অন্য খেলোয়াড়ের নাম ছিল। ফলে ম্যাচের শেষ ২৫ মিনিটে মাঠে থাকার সুযোগ হারান তিনি, যা বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এখন ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে কোচ কার্লো আনচেলত্তির ঘোষণার দিকে। শেষ পর্যন্ত নেইমারের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতা তাকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা এনে দিতে পারে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

