যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে নতুন করে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলার চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ পয়েন্টে ইতোমধ্যে প্রায় ১২০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
সিরাজগঞ্জ পাউবো সূত্রে জানা গেছে, উজানের ঢল ও টানা ভারী বর্ষণের কারণে গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, আপাতত পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই।
তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে কাজীপুর পয়েন্টে যমুনার পানি ৪০ সেন্টিমিটার এবং সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কাজীপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩ দশমিক ২ মিটার এবং সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্টে ২ দশমিক ৬৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী Nazmul Hasan বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ ও বৃষ্টিপাতের কারণে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আগামী কয়েকদিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে চলতি দফায় পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা কম।
পাউবোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এখন পর্যন্ত যমুনার পানি অন্তত পাঁচবার ওঠানামা করেছে। এর প্রভাবে চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিনে চর সলিমাবাদ এলাকায় পাঁচ থেকে ছয়টি বসতবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আকস্মিক ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
ভুক্তভোগী মোবারক হোসেন বলেন, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে তার বসতঘর নদীগর্ভে চলে গেছে এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি।
চৌহালী উপজেলার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করে সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী Mowdud Ahmed Sabuj জানান, নতুন চর জেগে ওঠায় নদীর মূল স্রোত তীরবর্তী অংশে আঘাত করায় ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।
এদিকে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

