লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য Anwar Hossain Khan-সহ ১৭৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার রাতে রামগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ১৬ জুন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের মরদেহ ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিবার হত্যার অভিযোগ করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মামলার বাদী রবিউল হাসান, যিনি স্থানীয়ভাবে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা সংগঠিত হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও কয়েকজনকে মারধর করেন। শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জনরোষকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থী মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা জিয়া উদ্দিন পৃথক একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় মেহেদীকে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৯ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এক আসামি তুহিন মালিক দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি কারাগারে ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৩ জুন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি ১৭ জুন জামিনে মুক্তি পান। ফলে ১৬ জুনের ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা থাকার প্রশ্নই ওঠে না।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা Firoz Uddin Chowdhury বলেন, হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যেক আসামির সম্পৃক্ততা যাচাই করা হবে। কেউ ঘটনার সময় কারাগারে বা অন্য কোথাও অবস্থান করেছেন বলে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

