সুনামগঞ্জে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের প্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়া নদ-নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে জেলার ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), সুনামগঞ্জের বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ৯টার বন্যা পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ সদর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা সকাল ৯টায় ৭ দশমিক ২৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার তুলনায় এ পয়েন্টে পানির স্তর ১৩ সেন্টিমিটার কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
লাউরেরগড় পয়েন্টে যাদুকাটা নদীর পানির উচ্চতা ৬ দশমিক ৯৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ১০ মিটার নিচে রয়েছে। অন্যদিকে, ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৮ দশমিক ৬৪ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে ওই এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দিরাই পয়েন্টে কালনী নদীর পানির উচ্চতা ৬ দশমিক ০১ মিটার, যা বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। দিরাইয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ছাড়া জগন্নাথপুর ও সোলেমানপুর পয়েন্টে পানির স্তর যথাক্রমে ৬ দশমিক ৫২ মিটার এবং ৬ দশমিক ৫০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এসব পয়েন্টে বিপৎসীমা নির্ধারিত না থাকায় তুলনামূলক অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, জেলার কোনো নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে উজানের বৃষ্টিপাত ও নদীর প্রবাহের পরিবর্তনের ওপর পরিস্থিতি নির্ভর করছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিকভাবে পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানিয়েছেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখাসহ প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

