সুস্থ সমাজ গঠনে নারীর মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার, ভুল ধারণা ও সচেতনতার অভাব দূর করে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং সমাজের সর্বস্তরে মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
বুধবার (২২ জুলাই) ফরিদপুর শহরের একটি রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে ফাউন্ডেশন ফর উইমেন পসিবিলিটিজের সহযোগিতায় দিনব্যাপী “Women’s Mental Health: Awareness, Empathy and Practical Actions” শীর্ষক সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করে নারী উন্নয়ন সংস্থা ‘নন্দিতা সুরক্ষা’।
নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ গড়ে তোলা এবং প্রাথমিক মানসিক সহায়তা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মশালায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবী নারী, তরুণ-তরুণী, যুব অ্যাক্টিভিস্ট, স্বেচ্ছাসেবক, নারী অধিকারকর্মী এবং সামাজিক উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিসহ মোট ২৫ জন অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সুস্থতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাহাপারা আলম। তিনি নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বর্তমান বাস্তবতা, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকি, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বার্নআউট, বিষণ্নতার কারণ, প্রাথমিক লক্ষণ এবং এসব পরিস্থিতিতে সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ ও প্রাথমিক মানসিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক ট্যাবু ও ভুল ধারণার কারণে অনেক নারী সময়মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা পান না। এ কারণে আত্মযত্ন (Self-care), সহমর্মিতাপূর্ণ যোগাযোগ, নিরাপদ রেফারেল ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।
অংশগ্রহণমূলক এ কর্মশালায় বিশেষজ্ঞের উপস্থাপনা, দলীয় আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের বাস্তবধর্মী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি তরুণ ও সামাজিক কর্মীদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও কমিউনিটিতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের বেনিফিসিয়ারিজ ফ্রেন্ডশিপ ফোরাম (বিএফএফ)-এর নির্বাহী পরিচালক এ. এন. এম. ফজলুল হাদী সাব্বির বলেন, নারীর শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত না হলে ব্যক্তি, পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়। তাই সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
নন্দিতা সুরক্ষার নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, নারীর মানসিক স্বাস্থ্য একটি মৌলিক অধিকার। সুস্থ সমাজ গঠনে নারীর মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সহমর্মিতাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার পাশাপাশি নন্দিতা সুরক্ষা ভবিষ্যতেও নারী ও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, অধিকার ও কল্যাণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

