খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৯ জন রোগী খুলনা জেলায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৫ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এ জেলায় মোট ৪১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৬৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে ৪৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত এক দিনে নতুন করে ১৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে এ হাসপাতালে মোট ৩৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩২৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৪ জন। হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বাগেরহাটে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে জেলাটিতে মোট ৬৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা খুলনা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ৬০৭ জন সুস্থ হয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৪৯ জন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া যশোরে ৪ জন, ঝিনাইদহে ৩ জন, মাগুরায় ২ জন, নড়াইলে ২ জন, কুষ্টিয়ায় ১ জন এবং মেহেরপুরে ২ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সাতক্ষীরা জেলায় নতুন কোনো রোগী শনাক্ত না হলেও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গায় নতুন কোনো রোগী শনাক্ত বা ভর্তি হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ২ হাজার ৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে ১ হাজার ৮২১ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৮৫ জন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন এবং বাগেরহাটে ১ জন মারা গেছেন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলের আশপাশে কোথাও যেন পরিষ্কার বা নোংরা পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথাসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

