বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনায় এক নীরব কিন্তু গভীর পরিবর্তন এনে দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। একসময় অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত বা তথ্যের খোঁজে দীর্ঘ সময় পার করতে হলেও, এখন চ্যাটজিপিটি কিংবা জেমিনাইয়ের মতো টুলস ব্যবহার করে কয়েক মুহূর্তেই কঠিন বিষয়ের ব্যাখ্যামূলক সারসংক্ষেপ, প্রেজেন্টেশন ও খসড়া প্রস্তুত করা সহজ হয়ে উঠেছে। তবে সময় সাশ্রয়ী এই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও প্রজ্ঞার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মতামত অনুযায়ী, এআই তাঁদের সময় বাঁচালেও নিজস্ব মনন ও গভীর অনুশীলনের ঘাটতি তৈরি করছে। অতিরিক্ত নির্ভরতার ফলে কমছে সৃজনশীলতা। পাশাপাশি, এআই অনেক সময় বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করে, যা প্রাথমিক ধারণা না থাকলে সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকদের মতে, এআই শিক্ষার গতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হলেও তা কখনোই মৌলিক চিন্তার বিকল্প হতে পারে না। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকেরা পরামর্শ দিয়েছেন, ডিজিটাল সচেতনতা বজায় রেখে তথ্যের নির্ভুলতা যাচাই করা এবং এআই-কে কেবল সহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। ক্যালকুলেটর বা ইন্টারনেটের মতোই এআই শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত শেখার মূল দায়িত্ব মানব মস্তিষ্কের যুক্তিবোধ ও কৌতূহলের ওপরই নির্ভর করবে।

