রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দিপু। দায়িত্ব নেওয়ার পর পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে জেলার সব মানুষের উন্নয়ন, বৈষম্য ও দুর্নীতি দূরীকরণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে প্রবেশ করে নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন দীপন তালুকদার দিপু। এ সময় নবগঠিত জেলা পরিষদের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোন্দকার রেজাউল আলম নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা থেকে রাঙামাটিতে ফেরার পথে জেলার প্রবেশমুখ বেতবুনিয়ায় পৌঁছালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দীপন তালুকদার দিপুকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পরে শত শত মোটরসাইকেল ও গাড়ি নিয়ে মোটর শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোভাযাত্রাটি বেতবুনিয়া থেকে শুরু হয়ে রানীরহাট, কাউখালী, ঘাগড়া, ভেদভেদি, কলেজ গেট, বনরূপা ও কাঁঠালতলীসহ শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। জেলার ১০ উপজেলার নেতাকর্মীদেরও এতে অংশ নিতে দেখা যায়।
পরে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। সংবর্ধনার জবাবে দীপন তালুকদার দিপু বলেন, সকল ধরনের বৈষম্য দূর করে পাহাড়ি-বাঙালি সবার উন্নয়নে কাজ করবেন তিনি। বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠনকে তিনি মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, রাঙামাটির সব সম্প্রদায়ের সুষম উন্নয়ন, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে কাজ করা হবে।
এদিকে নতুন চেয়ারম্যানকে ঘিরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। দীপেন দেওয়ান ও মীর হেলাল উদ্দিনকে ঘিরে দলটির দুটি পক্ষের কথা স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের প্রায় দেড় বছরের কার্যক্রম নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির যে অভিযোগগুলো উঠেছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রত্যাশাও রয়েছে স্থানীয়দের।
নতুন পরিষদকে ঘিরে রাঙামাটিবাসীর প্রত্যাশা—রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পর্যটন, কৃষি ও অবকাঠামো খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে জেলা পরিষদ আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সাধারণ মানুষের।

