নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলাচলের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র (স্টুডেন্ট কার্ড) সঙ্গে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এএফএম আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নোয়াখালী জেলা শহরে কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় টিউশন, শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে মাইজদী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় যাতায়াতকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সবসময় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় প্রয়োজন ছাড়া অযথা ঘোরাঘুরি বা অবস্থান না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।
তবে প্রশাসনের এ নির্দেশনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। তাদের দাবি, সম্প্রতি জেলা শহরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির পর এমন নির্দেশনা তাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি করেছে।
জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট নোয়াখালী পৌর পার্ক এলাকার একটি ফুচকার দোকান থেকে নোবিপ্রবির পাঁচ শিক্ষার্থীকে পুলিশ আটক করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের বিনা কারণে আটক করার পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও অসম্মানজনক আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জেলা পুলিশের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জেলা পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়। এ সময় ওই ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয় বলে জানা গেছে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা হয়।
এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নতুন এই নির্দেশনাকে ভিন্নভাবে দেখছেন অনেক শিক্ষার্থী। তাদের আশঙ্কা, পূর্বের ঘটনার জের ধরে ভবিষ্যতে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুলিশি হেনস্তার শিকার হতে পারেন। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আরও শক্ত ও কার্যকর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে নোবিপ্রবি প্রক্টর অধ্যাপক এএফএম আরিফুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

