ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৭ নিখোঁজ ফিলিস্তিনির মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ‘শহীদদের মরদেহ উদ্ধার’ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স।
তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই এই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ফিলিস্তিনিদের মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধারের লক্ষ্যেই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। তবে ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটে উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে উত্তর গাজার গাজা সিটি এবং মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের নিচে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গাজা সিটির জেইতুন ও ইয়ারমুক এলাকায় হাজ্জি ও আল-নাদিম পরিবারের বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৬ নিখোঁজ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে আল-ওয়ার পরিবারের একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ উদ্ধারের কাজ এখনও ধীরগতিতে চলছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ধ্বংসস্তূপ সরানো ও নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি।
২০২৫ সালের অক্টোবরে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছিল, ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনিকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের অনেকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন। আবার অনেকের ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দ্বিতীয় ধাপের উদ্ধার প্রকল্পে মোট ৮০০ ঘণ্টা কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। গাজা, উত্তর গাজা ও মধ্যাঞ্চলের ১৪৭টি ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ি ও স্থাপনায় অনুসন্ধান চালানো হবে। সিভিল ডিফেন্সের আগের হিসাব অনুযায়ী, এসব স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও প্রায় ১ হাজার ৭২টি মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে।
এর আগে গত নভেম্বরের শেষ দিকে প্রকল্পটির প্রথম ধাপ শুরু হয়। ওই পর্যায়ে ৫৪টি বাড়ি ও ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা ৫৫৯ নিখোঁজ ব্যক্তির মধ্যে প্রায় ৩৩৩ জনের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

