জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের শিশু মরিয়মকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে নিজের ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন প্রধান অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম (৩৫)। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা এ তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো স্কুলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় মরিয়ম। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মা মেয়ের খোঁজ নিতে স্কুলে গিয়ে জানতে পারেন, মরিয়ম সেদিন স্কুলে যায়নি। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আশপাশের পুকুর ও নালায় তল্লাশি চালিয়েও শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ওই দিনই পরিবারের পক্ষ থেকে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে মৃত আলতাবুর রহমানের ছেলে জামিলুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। একপর্যায়ে বসতঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জামিলুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ববিতা বেগমকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
পরে ১৩ সেপ্টেম্বর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা করেন। মামলার পর আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে জামিলুল ইসলাম ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জামিলুল ইসলামের বড় মেয়ের সঙ্গে মরিয়ম একই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। স্কুলে যাওয়ার পথে মরিয়ম প্রায়ই তার সহপাঠীর সঙ্গে খেলতে তাদের বাড়িতে যেত। ঘটনার দিন জামিলুলের স্ত্রী তার বোনের বাড়িতে যাওয়ায় তিনি ঘরে একাই ছিলেন। এ সুযোগে মরিয়ম তাদের ঘরে গেলে জামিলুল তাকে ধর্ষণ করেন। পরে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে শিশুটিকে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে স্বীকার করেন তিনি। এরপর ঘটনা গোপন করতে নিজের ঘরের মেঝেতে গর্ত করে মরিয়মের মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।
শিশুটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়ের পড়াশোনায় খুব আগ্রহ ছিল। একটা দিনও স্কুল কামাই করত না। সবার আগে স্কুলে যাইত। ওই দিন সকাল সাড়ে ৮টায় স্কুলে গেছে। এর পর থেকে আমার মেয়েকে পাইতেছিলাম না। এহন পাইলাম তার লাশ। আমার নিষ্পাপ সন্তান কী অপরাধ করেছিল? তাকে কেন মারল? আমার মেয়েরে মাইরা পুঁইতে রাখছিল কেন? আমি বিচার চাই।’
শিশুটির মামা বলেন, ‘এটা মাইনে নেওয়ার মতো না। কী মাইনে নিমু বলেন। আল্লাহ গো, এর বিচার কি হইব? এর বিচার সর্বোচ্চ কী করবেন আপনারা? ফাঁসির রায় দিবেন সর্বোচ্চ? কিন্তু ফাঁসি আপনারা দিবেন না।’

