ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুজ্জামান চৌধুরী রাশেদের ওপর হামলা চালিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফির উদ্দিন ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত ছেলেকে দেখতে যাওয়ার পথে রাশেদের মা সালেহা বেগমকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা শফির উদ্দিনের দাবি, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাশেদসহ অন্যরা তার পা ভেঙে দিয়েছে এবং সঙ্গে থাকা ব্যবসার ৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের কালমেঘ বাজারের পাশে একটি ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত মো. রাশেদুজ্জামান চৌধুরী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের সনগাঁও গ্রামের রেজাউল করিম চৌধুরীর ছেলে। অভিযুক্ত শফির উদ্দিন একই গ্রামের আতিবুর রহমানের ছেলে এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাশেদুজ্জামান চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করে আসছি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও রাজনৈতিক কারণে শফির উদ্দিন, খালেকসহ তাদের লোকজন আমার ওপর তিন দফা হামলা চালিয়েছিল। সম্প্রতি তারা এলাকায় আমাকে ৭ দিনের মধ্যে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, গতকাল সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হলে শফিরের লোকজন রামদা নিয়ে আমাকে ধাওয়া করে। বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিক বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানাই। পরবর্তীতে মঙ্গলবার বিকেলে আমরা স্থানীয় ভাটার কাছে পৌঁছালে শফির, মোবারক, আজিজ, আব্দুল খালেক, দেলোয়ার ও শফিরের ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী আকাশসহ ১৫-২০ জন সশস্ত্র অবস্থায় রামদা ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আমাকে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে আমার মা অটোযোগে সেখানে আসার পথে তাদের বাড়ির সামনে তাকেও গাড়ি থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাদের সঙ্গে কোনো পারিবারিক বা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নেই; কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই এ হামলা চালানো হয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি আলম নিহত হয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফির উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, আমি খোঁচাবাড়ী থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। সে সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রাশেদুজ্জামান চৌধুরীসহ কয়েকজন আমার ওপর হামলা চালিয়ে পা ভেঙে দেয় এবং ব্যবসার জন্য সাথে থাকা নগদ ৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। আমি কাউকে মারধর করিনি। পারিবারিক কোনো বিরোধ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো পারিবারিক ঝামেলা নেই। রাজনৈতিক কারণে রাশেদুজ্জামান আগে আমাকে কয়েকটি মামলায় ফাঁসিয়ে জেল খাটিয়েছে।” হাসপাতালে না যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “হাসপাতালে গেলে পুনরায় মারধর করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তাই বাড়িতে চিকিৎসক ও কবিরাজ ডেকে চিকিৎসা নিচ্ছি। অতীতে অভিযোগ করেও ফল পাইনি, তাই থানায় জানাইনি।
এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাশেদুজ্জামান ঘটনাটি পুলিশকে অবগত করলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এছাড়া ৭ লাখ টাকা ছিনতাই বা মারধরের বিষয়ে শফিরের পক্ষ থেকে থানায় কিছু জানানো হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

