আজ ৩ অক্টোবর ন্যাশনাল বয়ফ্রেন্ড ডে। এই দিন প্রেমিকাদের প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও তাদের গুরুত্ব প্রকাশের উপযুক্ত সময় হিসেবে পালন করা হয়। প্রেমিকারা উপহার দিয়ে বা সরাসরি ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলে তাদের প্রেমিককে বিশেষ অনুভূতি দেন।
প্রেমিক বা বয়ফ্রেন্ড কেবল একজন বন্ধু নয়, বরং আবেগ ও ভরসার স্থান। সে কেবল মিষ্টি কথা বা সুন্দর স্বপ্ন দেখানোর জন্য নয়, বরং সপ্তাহের দিনে দিনে পাশে থাকা, কঠিন মুহূর্তে সাহস জোগানো এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্যই একজন সত্যিকার প্রেমিক হিসেবে পরিচিত।
বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবসের আয়োজনে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সঙ্গীর সাথে তোলা ছবি প্রকাশ করেন, ভালোবাসার বার্তা লিখেন বা একসঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেন। কেউ কেউ ছোটখাটো উপহার বা পছন্দের খাবার দিয়ে সঙ্গীকে বিশেষ অনুভূতি দেয়ার চেষ্টা করেন।
এ দিবসের ইতিহাস এখনো অনিশ্চিত। বিভিন্ন সূত্রে ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের উদযাপন শুরু হওয়ার কথা বলা হলেও এর কোনো একক ও যাচাই করা উৎস পাওয়া যায়নি। ২০১০-এর দশকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট ও হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে দিবসটি আরও পরিচিতি পায়।
৩ অক্টোবর তারিখটি কেন বয়ফ্রেন্ড ডে হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল, তার নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা নেই। ২০০৪ সালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘মিন গার্লস’-এ এই তারিখের উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও, সেটিই কারণ হয়েছিল বলে কোনো প্রমাণ নেই।
দিনটি উদযাপনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। সঙ্গীর সাথে সময় কাটানো, পছন্দের খাবার তৈরি করা, ছোট্ট উপহার দেওয়া বা একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়া—যে যেভাবে চায় সেভাবেই ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যেতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ও শুভেচ্ছা পোস্ট করাও উদযাপনের অংশ হতে পারে।
বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবস কোনো সরকারি ছুটি বা আনুষ্ঠানিক জাতীয় দিবস নয়; এটি একটি অনানুষ্ঠানিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর উদযাপন। তাই বড় আয়োজন বা দামি উপহারের প্রয়োজন নেই। একটি আন্তরিক বার্তা, প্রিয় মানুষের সাথে কিছুটা সময় কাটানো বা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ—ছোট্ট এসব উদ্যোগই দিনটিকে বিশেষ করে তুলতে পারে।
প্রতি বছর ৩ অক্টোবর ঘিরে বয়ফ্রেন্ড ডে নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়ছে। সম্পর্কের মানুষকে একটু আলাদা করে সময় দেয়ার উপলক্ষ হিসেবে দিনটি উদযাপন করা যেতে পারে। বিশেষ কোনো দিনের চেয়ে আন্তরিকতা ও পারস্পরিক যত্নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ—এই বার্তাই দিনটির সবচেয়ে সুন্দর উদযাপন হতে পারে।

