ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটক হওয়া বিপ্লব রহমান (৪৮) নামে এক মাদক কারবারিকে ছাড়াতে তদবির করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। পুলিশ তদবিরে রাজি না হওয়ায় তিনি নানাভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টাও করেছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে থানা পুলিশের একটি বিশ্বস্ত সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার নাম আবু বেলাল ছিদ্দিক। তিনি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
পুলিশ জানায়, রবিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তা বাজারে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে মূল সড়ক থেকে বিপ্লব রহমানকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা হয় তার ব্যবহৃত ১৫০ সিসির মোটরসাইকেলটি। বিপ্লবকে থানায় নেওয়ার পর থেকেই তাকে ছাড়িয়ে নিতে রাতভর পুলিশের কাছে তদবির চালান ওই কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক জানান, শুরুতে বিপ্লবকে সরাসরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবু বেলাল ছিদ্দিক। তিনি দাবি করেন, আটক ব্যক্তি সম্পর্কে তার মামা হন। পুলিশ তাতে অস্বীকৃতি জানালে টাকার বিনিময়ে মাদকের পরিমাণ কমিয়ে মামলা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তিনি। মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানালে তিনি প্রভাব খাটানোর চেষ্টাও করেন।
ইয়াবাসহ আটক বিপ্লব রহমান ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালান্দর চৌধুরী হাট এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে। সোমবার সকালে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ।
অভিযানে অংশ নেওয়া বালিয়াডাঙ্গী থানার উপ-পরিদর্শক শাহরিয়ার হোসেন জানান, আসামি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় মাদক সরবরাহ করে আসছিল। অভিযানের সময় সে মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাকে ধরা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবু বেলাল ছিদ্দিক ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, যারা আপনাকে বলেছে তাদেরকেই জিজ্ঞাসা করেন। আমাকে এসব বলছেন কেন?” একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে মাদকসহ আটক ব্যক্তির পক্ষে তদবির করতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি দেখা করার কথা বলে সংযোগ কেটে দেন।
বালিয়াডাঙ্গী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল হাকিম জানান, আটক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

