নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে সরকার গঠনের মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারীপ্রধান পরিবার এই কার্ডের আওতায় ভাতা পাবেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে, কড়াইল বস্তি সংলগ্ন স্থানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরপরই নির্বাচিত নারীরা তাদের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভাতা পেয়ে যাবেন।
প্রাথমিকভাবে ঢাকার কড়াইল ও ভাসানটেক বাগানবাড়ি বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরসহ দেশের মোট ১৪টি এলাকায় এই পাইলট প্রকল্প চালু হচ্ছে। এর আওতায় নির্বাচিত নারীপ্রধান পরিবারগুলো মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। তবে এই সময় তিনি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। যদিও পরিবারের অন্য সদস্য কেউ কোনো সুবিধা পেয়ে থাকলে তা বহাল থাকবে।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাজধানীর কড়াইল বস্তি, ভাসানটেক বাগানবাড়ি বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাসন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওয়ার্ড পর্যায়ের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, গৃহস্থালির সামগ্রী যেমন টেলিভিশন, ফ্রিজ, কম্পিউটার ও মোবাইলের ব্যবহার এবং রেমিট্যান্স প্রবাহসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্য ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়।
পাইলট পর্যায়ে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে বিভিন্ন অর্থনৈতিক শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি সঠিক পাওয়া যায়। পরে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা গ্রহণ, সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী হওয়া ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পাইলটিং পর্যায়ে নির্বাচিত উপকারভোগীরা মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। ভবিষ্যতে একই মূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

