ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার দিন্দোরি এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৯ সদস্য নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬ জনই শিশু। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার পরিবারের ৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ৬ জন শিশু দিন্দোরির একটি কোচিং সেন্টারের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যার দিকে তারা মারুতি সুজুকি এক্সএল৬ গাড়িতে করে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের নিজ গ্রামে ফিরছিলেন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সুনীল দারগুডে (৩২)। দ্রুত পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে তিনি একটি শর্টকাট রাস্তা বেছে নেন, যা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।
পথিমধ্যে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি কূপের দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে ভেতরে পড়ে যায়। কূপটিতে তখন প্রায় ৪০ ফুট পানি ছিল, ফলে দুর্ঘটনাটি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। তারা নিজেরাও উদ্ধার প্রচেষ্টা চালান, তবে অন্ধকার এবং কূপের গভীরতার কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটে।
পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করে ডুবুরিদের সহায়তায় গাড়িটি শনাক্ত করে উদ্ধার করেন। কিন্তু ততক্ষণে গাড়ির ভেতরে থাকা সকল আরোহীর মৃত্যু হয়। নিহত শিশুদের মধ্যে একজনের মরদেহ গাড়ির বাইরে পাওয়া যায়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সুনীল দারগুডে, তাঁর স্ত্রী রেশমা, মেয়ে গুণবন্তী, সুনীলের শ্যালিকা আশা এবং আশার সন্তান শ্রেয়শ, শ্রাবণী, শ্রদ্ধা, সৃষ্টি ও তাদের এক আত্মীয়ের সন্তান সমৃদ্ধি।
এ ঘটনায় পুলিশ বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছে। জানা গেছে, কয়েক বছর আগে নির্মিত ওই রাস্তাটির পাশে থাকা কূপটি বন্ধ বা সুরক্ষিত করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ ও কূপের মালিকের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

