এবারের ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনায় মোট ৩৯৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশে ১৫ দিনে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং অন্তত ১ হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বছরের তুলনায় এবার দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উভয়ই বেড়েছে। প্রাণহানি বেড়েছে ৮.২৬ শতাংশ এবং দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে ৮.৯৫ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪৩ শতাংশই জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির কারণ। ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় অংশ। এছাড়া ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও যাত্রীবাহী বাসও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত ভাড়া এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা। পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, পরিবহন খাতে এখনো শৃঙ্খলা ফিরেনি এবং যাত্রীদের স্বার্থ যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি। ফলে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির পাশাপাশি দুর্ঘটনাও বেড়েছে।
দুর্ঘটনা কমাতে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, চালকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা এবং মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা।
এদিকে একই সময়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ১৭৮ জন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।

