১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, মোট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হতে পারে। বর্তমানে বিবিসিতে কর্মরত আছেন প্রায় ২১ হাজার ৫০০ জন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের পর এটিই বিবিসির সবচেয়ে বড় আকারের কর্মী ছাঁটাই উদ্যোগ।
নতুন মহাপরিচালক হিসেবে সাবেক গুগল নির্বাহী ম্যাট ব্রিটিন দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। তিনি আগামী ১৮ মে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এর আগে, ফেব্রুয়ারিতে বিবিসি ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল।
বিদায়ী মহাপরিচালক টিম ডেভি জানিয়েছিলেন, আগামী তিন বছরে সংস্থার প্রায় ৬ বিলিয়ন পাউন্ড বার্ষিক ব্যয়ের ১০ শতাংশ কমাতে হবে। বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্কের মুখে পড়ে গত নভেম্বরে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং ২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়েন।
বর্তমানে অন্তর্বর্তী মহাপরিচালক রোডরি তালফান ডেভিস জানিয়েছেন, বিবিসি গুরুতর আর্থিক চাপে রয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, লাইসেন্স ফি ও বাণিজ্যিক আয়ের ওপর চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যয় ও আয়ের ব্যবধান বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী দুই বছরে অতিরিক্ত ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে সংস্থাটি স্বল্পমেয়াদে নিয়োগ স্থগিত, ভ্রমণ ব্যয় কমানো, পরামর্শক সেবা সীমিত করা এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সম্মেলনে ব্যয় সংকোচনের মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে কাজের পুনরাবৃত্তি কমানো এবং কিছু কার্যক্রম বন্ধের বিষয়েও পর্যালোচনা চলছে।
এদিকে, মিডিয়া ইউনিয়ন ব্যাকটুর প্রধান ফিলিপা চাইলডস এই ছাঁটাইকে ‘ধ্বংসাত্মক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এ সিদ্ধান্ত বিবিসির জনসেবামূলক কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছর বিবিসি লাইসেন্স ফি থেকে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছে, যা এসেছে ২৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন পরিবারের কাছ থেকে। এছাড়া বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও অনুদান থেকে আরও প্রায় ২ বিলিয়ন পাউন্ড আয় হয়। তবে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা বাড়ায় লাইসেন্স ফি প্রদানকারী পরিবারের সংখ্যা কমছে, যা সংস্থাটির আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

