উপকূলীয় মেঘনা নদীতে জাটকা সংরক্ষণে আরোপিত টানা দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা আজ (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। এর ফলে আগামী ১ মে থেকে আবারও নদীতে মাছ ধরতে পারবেন লক্ষ্মীপুরের অর্ধ লক্ষাধিক জেলে। দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকার পর নতুন আশায় বুক বেঁধে নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
জেলেদের প্রত্যাশা, নিষেধাজ্ঞার সুফলে এবার নদীতে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যাবে, যা দিয়ে দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। তবে খাদ্য সহায়তার ঘাটতি ও পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য পুরোপুরি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়ও রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে প্রশাসনের নজরদারির কিছুটা শিথিলতার সুযোগে কোথাও কোথাও জাটকা আহরণের অভিযোগ উঠেছে। অনেক জেলে জানিয়েছেন, খাদ্য সহায়তার সংকট, ঋণের চাপ এবং পরিবার চালানোর তাগিদে বাধ্য হয়ে তারা নিষেধাজ্ঞা ভেঙে নদীতে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলেরা এখন জাল মেরামত, নৌকা প্রস্তুত ও ট্রলার ঠিকঠাক করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয় জেলে আব্দুল কাদের জানান, দুই মাস ঘরে বসে থাকতে গিয়ে ঋণের বোঝা বেড়েছে, সরকারি সহায়তাও পর্যাপ্ত পাননি। অন্যদিকে কমলনগরের জেলে তাজল ইসলাম বলেন, নদীতে না নামলে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে, তেলের দাম বাড়ায় খরচও বেড়েছে। একইভাবে হেলাল উদ্দিন বলেন, অনেকেই বাধ্য হয়ে রাতে গোপনে মাছ ধরতে গেছেন, কারণ পরিবারের খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করা জরুরি।
জেলেদের অভিযোগ, সরকারি খাদ্য সহায়তার তালিকায় নাম থাকলেও অনেকে চাল পাননি, আবার কেউ কেউ দালালের মাধ্যমে সহায়তা পেতে বাধ্য হয়েছেন।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাটকা আহরণ জুন মাস পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ২৪৪টি অভিযান পরিচালনা করে ২৯টি মামলা দায়ের, ৩০টি নৌকা আটক, ১৫ জনকে কারাদণ্ড এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ১ মে থেকে জেলেরা নদীতে নামতে পারবেন, তবে জাটকা আহরণ বা নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

