নেত্রকোনার মদনে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে নেত্রকোনা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার (৬ মে) র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নেত্রকোনা মদন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত সাগর নেত্রকোনার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২২ সালে ‘হযরত ফাতেমা তুজ্ জোহুরা মহিলা মাদ্রাসা’ নামে একটি কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে শিক্ষক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার স্ত্রী একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্বে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় এক বিধবা নারীর একমাত্র মেয়ে। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করায় মেয়েটি নানির কাছে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক সাগর শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরবর্তীতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে কয়েক মাস ধরে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ রাখে। পরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক গত ১৮ এপ্রিল মাদ্রাসা থেকে ছুটি নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ৩০ এপ্রিল মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

