বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এবার একটি প্রমোদতরীতে নোরোভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেস নামের একটি জাহাজে নোরোভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক যাত্রী ও ক্রু সদস্য অসুস্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নোরোভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক হলেও হান্টাভাইরাস তুলনামূলকভাবে বিরল কিন্তু অনেক বেশি প্রাণঘাতী। নোরোভাইরাস সাধারণত পাকস্থলি ও অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। দূষিত খাবার, পানি কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ভাইরাসকে অনেক সময় ‘স্টমাক ফ্লু’ বা ‘উইন্টার ভমিটিং বাগ’ নামেও ডাকা হয়।
নোরোভাইরাসে আক্রান্ত হলে বমি, ডায়রিয়া, বমিভাব, পেটব্যথা, হালকা জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। সংক্রমণের ১২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং অধিকাংশ রোগী ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন।
অন্যদিকে হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হলে শুরুতে জ্বর, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। পরে শ্বাসকষ্ট, কাশি, বুকব্যথা এবং ফুসফুসে পানি জমার মতো গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কিডনি বিকল ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণও দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মল, মূত্র বা লালার সংস্পর্শে ছড়ায় এবং এর মৃত্যুহার ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের অনেক সময় হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা, অক্সিজেন বা ভেন্টিলেটর সাপোর্টের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে নোরোভাইরাসে আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষ বাড়িতেই পর্যাপ্ত তরল ও ইলেকট্রোলাইট গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেস জাহাজে নোরোভাইরাসে ১০২ জন যাত্রী ও ১৩ জন ক্রু সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপদ খাবার গ্রহণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আলাদা রাখাই এ ধরনের ভাইরাস প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

