আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এরই অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র পদে ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে দলটি।
রোববার রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আসা ব্যক্তি এবং রাজনীতির বাইরে থাকা যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই করেই এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সাবেক নেতাকর্মীদের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তালিকায় এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন যারা অতীতে বিএনপি বা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া অনেকে আছেন, যারা আগে কখনো সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন না।
তিনি আরও বলেন, কিছু ব্যক্তি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও দলটির ‘স্বৈরাচারী আচরণে’ হতাশ হয়ে জুলাই আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এমন গ্রহণযোগ্য ও জনসম্পৃক্ত ব্যক্তিদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, এনসিপি আপাতত এককভাবেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব উপজেলায় জোটগতভাবে একক প্রার্থী নির্ধারণ করা জটিল উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আলোচনা সাপেক্ষে জোটগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল প্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি জানা থাকলে সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিতে সুবিধা পাবেন।
এনসিপি জানিয়েছে, এটি তাদের প্রথম ধাপের প্রার্থী তালিকা। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ও পৌরসভার জন্য আরও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণার মাধ্যমে এনসিপি তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে।

