দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কতজন শহীদ হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ও সর্বসম্মত সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। সরকার, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সংগঠনের দেওয়া তথ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অমিল রয়েছে।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়নের মুখে তা গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।
আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নিহতদের ‘জুলাই শহীদ’ এবং আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রথম দফায় ৮৩৪ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরে আরও নাম যুক্ত ও বাদ দেওয়ার পর বর্তমানে সরকারি গেজেট অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪৩ জন। একই সঙ্গে আহতের সরকারি সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৭০ জন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কয়েকজনের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন করে কিছু নাম যুক্ত করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বর্তমানে নতুন কোনো আবেদন না থাকায় সরকারি গেজেট অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা ৮৪৩-এই রয়েছে।
তবে এ সংখ্যা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সরকারি সংজ্ঞা অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের হামলায় নিহত ব্যক্তিদেরই ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অনেক নিখোঁজ ব্যক্তির বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য না থাকায় তালিকাকে পূর্ণাঙ্গ বলা যাচ্ছে না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, শহীদের চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ সরকারের দায়িত্ব। প্রয়োজন হলে জাতিসংঘের তথ্য যাচাই করে নির্ভুল সংখ্যা প্রকাশ করা উচিত, যাতে ইতিহাস সংরক্ষণ, ক্ষতিপূরণ এবং জনঅর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারে বিভ্রান্তি দূর হয়।
এদিকে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন দাবি করে আসছে। কোথাও দেড় হাজার, কোথাও দুই হাজারের বেশি, আবার কোথাও হাজার হাজার মানুষের শহীদ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহতের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে, সরকার অনুমোদিত জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে একদিকে শহীদের সংখ্যা ৮২০ জনের বেশি উল্লেখ করা হলেও তালিকায় ৮৩৫ জনের নাম রয়েছে। ফলে শহীদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি এখনো কাটেনি।

