ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত ১৯ শিক্ষক ও ১১ কর্মকর্তার শাস্তি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে মওকুফ করা হলেও একই অভিযোগে অভিযুক্ত ৩৩ শিক্ষার্থীর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে সংশ্লিষ্ট সব পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই একটি সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
সোমবার (১৬ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তীতে শাস্তি মওকুফের পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না। তাই কী কারণে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, তৎকালীন প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। সেই সিদ্ধান্তে কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে, তবে সে সময়ের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রশাসন হয়তো সেটিকেই প্রয়োজনীয় মনে করেছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিষয়টি যেহেতু ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে, তাই শিক্ষার্থীদের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যেতে পারে। যদিও এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে চান না তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন উপাচার্য।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১৯ জন শিক্ষক ও ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে গত ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় তাঁদের শাস্তি মওকুফ করে চাকরিতে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে একই অভিযোগে অভিযুক্ত ৩৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের বিষয়টি এখনো ঝুলে রয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

