ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় কুমারের ছেলে বন্দি ভগিরথ সাইয়ের বিরুদ্ধে এক নাবালিকাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
শনিবার (১৬ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সঞ্জয় কুমার, যিনি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য, তদন্তের স্বার্থে ছেলে সাইকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণী যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগ আনেন।
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সঞ্জয় কুমার বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান। তিনি জানান, আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্মান দেখিয়ে তার ছেলে আইনজীবীদের মাধ্যমে তেলেঙ্গানা পুলিশের কাছে তদন্তে অংশ নিতে হাজির হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার ছেলে শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ বলে আসছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা ও বিচারব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মামলার বিষয়ে আদালতে শুনানি চলমান রয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে আদেশ আসতে পারে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত শুনানি শেষে তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট সাইকে গ্রেপ্তার থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সাইয়ের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, অভিযোগকারী তরুণীর মা জানিয়েছেন যে তার মেয়ের সঙ্গে সাইয়ের পূর্বে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তবে ভুক্তভোগীপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন।
বিচারপতি টি মাধবী দেবী বলেন, এই পর্যায়ে কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়ার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে সাই দাবি করে আসছেন, এটি তাকে ‘হানি-ট্র্যাপ’ ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে ফাঁসানোর চেষ্টা। তার অভিযোগ, ওই তরুণী ও তার পরিবার তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল এবং ৫ কোটি রুপি দাবি করেছিল।
সঞ্জয় কুমারও অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, এগুলো বিরোধী দলের ছড়ানো মিথ্যা প্রচারণা।

