সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর দুবাই কর্তৃপক্ষ খুব শিগগিরই তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে।
শনিবার (২০ জুন) সচিবালয়ে পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুতগতিতে কাজ করছে। রেড নোটিশের ভিত্তিতে গত ১২ জুন দুবাইয়ের ফেডারেল পুলিশ ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। যদিও প্রয়োজনীয় নথি পাঠানোর জন্য ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল, সরকার মাত্র এক দিনের মধ্যেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পুলিশ কর্মকর্তারা ১৪৪ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত নথিপত্র প্রস্তুত করেছেন। এতে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণীসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব নথিতে স্বাক্ষরের পর তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, নথিগুলো আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক ব্যাগের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং ঢাকায় অবস্থিত ইউএই দূতাবাসকেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
দুবাই থেকে বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনা কতটা সহজ হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার তাকে ফেরত পাঠাবে বলে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও তদারকি অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ রেড নোটিশ জারি করেছিল। সম্প্রতি দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেফতারের পর সরকার বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি বা বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জোরদার করেছে।

