ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে আটক করার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার মৃত এস্কেন্দার হায়দারের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা Mahmudul Hasan।
প্রান্তের চাচা ও সাবেক কাউন্সিলর মির্জা আবু জাফর জানান, শনিবার গভীর রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা তাদের বাড়ি থেকে প্রান্তকে আটক করে নিয়ে যান। পরে সকালে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তিনি ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
অন্যদিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রাত ২টার দিকে গোন্দারদিয়া এলাকায় একটি অভিযানে প্রায় ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ প্রান্তকে আটক করা হয়। পরে তাকে জেলা গোয়েন্দা শাখার হাজতে রাখা হয়। পুলিশ দাবি করেছে, হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার Nazrul Islam বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ব্রেন স্ট্রোকের কারণে প্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পুলিশের পক্ষ থেকে তার ওপর কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বা আঘাত করা হয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

