ফরিদপুর শহরে নেশার টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে জন্মদাত্রী মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে রাহিম শেখের (৩০) বিরুদ্ধে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ৯টার দিকে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে ছিলেন।
এর আগে একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলিয়াবাদ এলাকার আব্দুর রহমান মোল্লার ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামেলা আক্তার (৬০) ওই এলাকার মৃত আকবর শেখের স্ত্রী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নেশার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে রাহিম তার মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় এলোপাতাড়ি কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শুকান্ত দত্ত জানান, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সালথার গট্টি ইউনিয়নের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে সিগারেটের প্যাকেট, ফয়েল পেপার, মোমবাতিসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের মাথায় ভারী ও ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় এক দশক আগে রাহিম তার সৎ মাকেও কুপিয়ে হত্যা করেছিলেন। ওই মামলায় কয়েক বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপর মাদকাসক্ত হয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখাতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

