প্রতি বছর ৮ আগস্ট পালিত হয় আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবস। পোষা প্রাণী হিসেবে বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা ও যত্নকে আরও উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিড়ালের কল্যাণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই দিনটি পালিত হয়। বিড়ালপ্রেমীদের জন্য দিনটি প্রিয় পোষ্যকে একটু বাড়তি সময়, আদর ও যত্ন দেওয়ারও দারুণ উপলক্ষ।
আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবসে আপনার বিড়ালের পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী নানা আয়োজন করতে পারেন। রইল সাতটি সহজ উপায়—
১. বাড়িতে তৈরি খাবার দিন
বিড়ালের খাবারে কিছুটা বৈচিত্র্য আনতে বাড়িতে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার দিতে পারেন। স্যামন, টুনা বা মুরগি দিয়ে তৈরি উপযুক্ত খাবার তাদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে খাবার তৈরির সময় বিড়ালের বয়স, স্বাস্থ্য ও খাদ্য-অসহিষ্ণুতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি। অতিরিক্ত খাবারের কারণে ক্যালোরি বেড়ে গেলে নিয়মিত খাবারের পরিমাণও সমন্বয় করতে হবে। কোনো উপাদান নিয়ে সন্দেহ থাকলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
২. নতুন খেলনা দিন
বিড়াল খেলতে ভালোবাসলে আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবস হতে পারে নতুন খেলনা দেওয়ার উপযুক্ত সময়। তাড়া করার খেলনা, ধাঁধা-খেলনা, অ্যাক্টিভিটি বোর্ড কিংবা ফিশিং-রড ধরনের খেলনা তাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখতে পারে। চাইলে নিরাপদ উপকরণ দিয়ে ঘরেই তৈরি করতে পারেন কিছু খেলনা। তবে খেলনার সঙ্গে কিছুটা সময় নিজেও খেললে বিড়ালের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
৩. প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যাচাই করুন
বিড়ালের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ঠিকঠাক আছে কি না, তা যাচাই করারও ভালো সময় এটি। একাধিক বিড়াল থাকলে পর্যাপ্ত লিটার-ট্রে, খাবার ও পানির বাটি রাখা উচিত। পাশাপাশি স্ক্র্যাচিং পোস্ট, ওঠানামার জায়গা, লুকানোর স্থান এবং শান্তিতে ঘুমানোর ব্যবস্থা থাকা দরকার। নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশ বিড়ালের মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৪. পাখি দেখার ব্যবস্থা করুন
অনেক বিড়াল জানালা দিয়ে পাখি দেখতে পছন্দ করে। ঘরের ভেতরে থাকা বিড়ালের জন্য জানালার পাশে আরামদায়ক চেয়ার বা ক্যাট-ট্রি রাখা যেতে পারে। বাইরে বিড়ালের নাগালের বাইরে পাখির খাবারের পাত্র রাখলে তারা নিরাপদ দূরত্ব থেকে পাখি দেখার সুযোগ পাবে। তবে বিড়ালের নিরাপত্তা ও পাখিদের সুরক্ষার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে।
৫. ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখুন
বিড়ালের সঙ্গে কাটানো বিশেষ মুহূর্তগুলো ছবিতে ধরে রাখতে পারেন। ছবি তোলার সময় ফ্ল্যাশ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা ভালো। বিড়ালের চোখের উচ্চতা থেকে ছবি তুললে ছবি আরও প্রাণবন্ত হয়। খেলাধুলার সময়ও সুন্দর মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করা যেতে পারে। তবে বিড়ালকে শুধু ছবি তোলার জন্য অস্বস্তিকর পোশাক পরানো উচিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি শেয়ার করলে #InternationalCatDay হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করা যেতে পারে।
৬. পশু আশ্রয়কেন্দ্রে সহায়তা করুন
সব বিড়ালেরই এমন সৌভাগ্য হয় না যে তারা একটি নিরাপদ ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবার পায়। তাই আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবসে স্থানীয় পশু উদ্ধারকেন্দ্র বা আশ্রয়কেন্দ্রে সহযোগিতা করতে পারেন। প্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধ বা অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবেও সময় দিতে পারেন।
৭. বিড়ালকে গ্রুমিং করান
বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি গ্রুমিং করাও যত্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত ব্রাশ করলে ঝরে পড়া লোম কমাতে এবং লোমে জট পড়া রোধ করতে সহায়তা করতে পারে। গ্রুমিংয়ের সময় বিড়ালের শরীরে কোনো কাটা দাগ, ফোলা বা অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া উচিত। অস্বাভাবিক কিছু দেখা গেলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবস শুধু বিড়ালকে আদর করার দিন নয়; বরং তাদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, কল্যাণ এবং দায়িত্বশীলভাবে পোষ্য হিসেবে পালনের বিষয়েও সচেতন হওয়ার একটি সুযোগ।
২০০২ সালে প্রাণিকল্যাণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার (IFAW) আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবসের প্রচলন করে। বিশ্বের বিড়ালদের উদযাপনের পাশাপাশি তাদের কল্যাণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং দায়িত্বশীল পোষ্য পরিচর্যায় উৎসাহ দেওয়াই ছিল দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

