ভারতের উত্তরপ্রদেশে পরিত্যক্ত ও অনুৎপাদনশীল গরুর সুরক্ষায় এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। এখন থেকে খামারি ও কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে গোমূত্র কেনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে রাজ্যের বুলান্দশ্বর জেলায় পাইলট প্রজেক্ট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার গোমূত্র ১০ রুপি দরে কেনা হচ্ছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই পাইলট প্রজেক্টটি সফল হলে পরবর্তীতে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে এবং তখন প্রতি লিটার গোমূত্রের মূল্য বাড়িয়ে ২০ রুপি করা হবে। গত বুধবার (১২ আগস্ট) ভারতের একাধিক শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মূলত যেসব গরু আর দুধ দেয় না, সেগুলোকে যেন মালিকরা রাস্তায় বা বাইরে ছেড়ে না দেন, সেই উদ্দেশ্যেই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দুধ না দিলেও গোমূত্র বিক্রি করে যেন সাধারণ কৃষক, খামারি এবং বিশেষ করে গ্রামীণ নারীরা বাড়তি আয় করতে পারেন, সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে করে গরুগুলো ঘরেই থাকবে এবং খাদ্যাভাব বা অযত্নের শিকার হবে না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বুলান্দশ্বর জেলার ১৫টি গ্রামে এই প্রকল্প চালু রয়েছে। সংগৃহীত গোমূত্র কৃষিকাজে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা হবে, যা রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনবে বলে আশা করছেন সরকারি কর্মকর্তারা। বর্তমানে এই ১৫টি গ্রাম থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং এর জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে ২০০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। তবে সরকারের এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি। দলটির দাবি, সাধারণ মানুষের কল্যাণ না করে কেবল অর্থ লোপাটের উদ্দেশ্যেই এই ভিত্তিহীন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

