ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা। তারা জানান, এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছে এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দাবির অবস্থান থেকে সরে এসে বিষয়টি সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় হবে না, বরং বিচারিক প্রক্রিয়াতেই এর নিষ্পত্তি হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অপরাধগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব আইনি নথিপত্র সংযুক্ত করে বাংলাদেশকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ এরই মধ্যে ভারতের কাছে পাঠিয়েছে ঢাকা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যর্পণের বিষয়টি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তবে সম্প্রতি তিনি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ এই প্রত্যর্পণের দাবি জানাচ্ছে।
তবে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, ভারতে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে ট্রাইব্যুনালের রায়কে বিভিন্ন আইনি যুক্তিতে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের চুক্তিতে সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার বিধান থাকলেও এবং রাজনৈতিক অপরাধকে ছাড় দেওয়া হলেও হত্যা, হামলা ও মারাত্মক অপরাধকে রাজনৈতিক হিসেবে গণ্য না করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইন অনুযায়ী, অনুসন্ধানী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পেলে প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন, অন্যথায় মুক্তি দেওয়ারও বিধান রয়েছে।

