অর্থের অভাবে অনেক মানুষ অন্যায়ের শিকার হলেও আইনজীবীর ফি, মামলা পরিচালনা ও আদালতে যাতায়াতের খরচ বহন করতে না পেরে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন না। এমন অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড অফিস। চলতি মাসে বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে বিভিন্ন ধরনের ১৮৪টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি খরচে ১৯ জনের পক্ষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি আপস-মীমাংসা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রায় আট লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।
অর্থের কারণে কোনো ব্যক্তি আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারলে তাঁর আবেদনের পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী মামলা দায়ের ও পরিচালনার ক্ষেত্রেও সহায়তা দেওয়া হয়।
লিগ্যাল এইডের সেবা নেওয়া আরিফুল ইসলাম, খোকন, রুবেল ও আশরাফুল বলেন, তাঁদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে আইনজীবীর ফি দেওয়া কিংবা দীর্ঘদিন মামলা চালানোর খরচ বহন করা কঠিন। লিগ্যাল এইড অফিসে এসে তাঁরা আইনি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেয়েছেন। তাঁদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়া এক সেবাগ্রহীতা বলেন, দীর্ঘদিনের একটি বিরোধ নিয়ে সমস্যায় ছিলেন তিনি। মামলা হলে আইনজীবীর ফি ও আদালতে যাতায়াতসহ নানা খরচ বহন করতে হতো। লিগ্যাল এইড অফিসের উদ্যোগে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ায় সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়েছে।
লিগ্যাল এইডের তালিকাভুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট ললিত কুমার রায় বলেন, অর্থের অভাবে অনেক মানুষ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন না। সরকারি আইনগত সহায়তার কারণে তাঁরা বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ ও মামলা পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন।
অ্যাডভোকেট সমশের আলী বলেন, আইনগতভাবে আপসযোগ্য অনেক বিরোধ দুই পক্ষের সম্মতিতে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এতে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আদালতে মামলার চাপও কমে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা যেন বাধা না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ দিক থেকে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র মানুষকে এ সেবা সম্পর্কে জানাতে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে আরও প্রচার প্রয়োজন।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. মজনু মিয়া বলেন, অর্থের অভাবে কোনো মানুষ যেন ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই লিগ্যাল এইড কাজ করছে। চলতি মাসে ১৯ জনের পক্ষে সরকারি খরচে মামলা দায়ের, ১৮৪টি আবেদন নিষ্পত্তি এবং প্রায় আট লাখ টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন।

