গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় অবস্থিত কেয়া গ্রুপের নীট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেডের ৬১৩ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কারখানার মূল ফটকে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের নামের তালিকা সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকরা কারখানার প্রধান ফটকে ভিড় করতে থাকেন। এ সময় তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা যায়।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত জনবলের কারণে কারখানার উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ সব সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশন থেকে কিছু পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী কারখানার অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ছাঁটাই করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নোটিশে আরও বলা হয়, শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাই করা শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনাদি পরিশোধ করা হবে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে কারখানায় পুনরায় নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে শ্রম আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্নিয়োগ করা হবে। যেসব শ্রমিক-কর্মচারীর চাকরি বহাল রয়েছে, তারা লে-অফ নোটিশের আওতাভুক্ত থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী লে-অফ সুবিধা পাবেন।
এ বিষয়ে কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনাদি পরিশোধ করা হবে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, কেয়া গ্রুপের কিছু শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার মূল ফটকে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুন ২০২৬ থেকে ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ দেখিয়ে কারখানাটি লে-অফে রয়েছে। এরপর থেকে লে-অফের মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

