ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ এবং ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩।
শুক্রবার রাতে গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আল আমিন রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের মো. হানিফের ছেলে।
র্যাব জানায়, মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ওই নারী তার বাবার বাড়িতে গোসল করার সময় আসামি জনি বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওই নারী বাথরুম থেকে বের হলে বাইরে অবস্থান করা আল আমিন তাকে গলা ধরে ফের বাথরুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এ সময় জনি তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে এবং তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আল আমিনও তাকে ধর্ষণ করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
র্যাব আরও জানায়, ঘটনার ভিডিও ধারণের পর আসামিরা সেটি অন্যত্র স্থানান্তর করে। এরপর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দিতে থাকে।
সর্বশেষ গত ২ আগস্ট অপর আসামি মাহবুব আলম তার মোবাইলে থাকা ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় গণধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব জানায়, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে র্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ রংপুরের সদর কোম্পানি ও র্যাব-১ গাজীপুরের সিপিএসসির যৌথ দল শুক্রবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আল আমিনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।

