ফরিদপুরের নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন ডা. এস এম মনজুর-এ-এলাহীকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবিতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মূল ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন ছাত্র সমাজ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত টানা এক ঘণ্টা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে এই অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশ পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং সেবাগ্রহীতারা সাময়িক ভোগান্তিতে পড়েন।
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা ডা. মনজুর-এ-এলাহীর নিয়োগকে বিতর্কিত ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অনুপযুক্ত দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত ভূমিকার কারণে এই চিকিৎসককে কোনোভাবেই জেলার সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। অবিলম্বে এ নিয়োগ আদেশ প্রত্যাহার না করা হলে সিভিল সার্জন কার্যালয় স্থায়ীভাবে অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক ভিপি প্রার্থী খাইরুল ইসলাম রোমান বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ যখন ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে, তখন সেই ফ্যাসিবাদের দোসরদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো ছাত্র-জনতার ত্যাগের প্রতি চরম অবমাননা। বিতর্কিত কাউকে কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে বসতে দেওয়া হবে না।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি কাজী রিয়াজ তাঁর বক্তব্যে জানান, স্বাস্থ্য খাতের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। অনতিবিলম্বে এ বিতর্কিত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে কোনো যোগ্য, নিরপেক্ষ ও সৎ চিকিৎসককে সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন করতে হবে; অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফরিদপুরজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
অবরোধ কর্মসূচির কারণে কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সেখানে পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়। পরবর্তীতে ছাত্র নেতারা জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আপাতত অবরোধ স্থগিত করলেও রাজপথে আন্দোলনের চূড়ান্ত হুশিয়ারি দিয়ে ফিরে যান। ঘটনার বিষয়ে নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

