সারাদেশের মধ্যে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের দিক থেকে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে ময়মনসিংহ জোন। এর মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগের অভ্যন্তরীণ বণ্টনে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে ত্রিশাল উপজেলা। তীব্র গরমের মধ্যে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপজেলার জনজীবন।
জাতীয় গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (PGB)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পিক আওয়ারে দেশের ৯টি জোনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৫৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড হয়েছে ময়মনসিংহে। জেলা বিদ্যুৎ বণ্টন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের গ্রামীণ এলাকায় মোট চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে।
এর মধ্যে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন ত্রিশাল জোনাল অফিস এলাকায় লোডশেডিংয়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় প্রতি ঘণ্টায় কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় রাতের বেলায় টানা ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে।
ত্রিশালে লোডশেডিং তীব্র হওয়ার পেছনে বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ত্রিশাল ও পার্শ্ববর্তী ভালুকা অঞ্চল ময়মনসিংহের গুরুত্বপূর্ণ পোশাকশিল্প (আরএমজি) ও বাণিজ্যিক এলাকা। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম থাকলেও শিল্পকারখানার উৎপাদন সচল রাখতে সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে ঘাটতির বড় অংশের চাপ পড়ছে ত্রিশালের আবাসিক ও গ্রামীণ ফিডারগুলোর ওপর।
এ ছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহের রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং ভারতের আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টে কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ ঘাটতি আরও তীব্র হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ত্রিশাল জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) বলেন, “জাতীয় গ্রিড থেকেই আমরা চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাচ্ছি। ত্রিশাল একটি শিল্প-অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ সচল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হয়। যার ফলে আবাসিক ও গ্রামীণ লাইনে বাধ্য হয়ে আমাদের রোটেশন অনুযায়ী লোডশেডিং বাড়াতে হচ্ছে। আমরা গ্রিড থেকে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। সরবরাহ বাড়লেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”
অস্বাভাবিক লোডশেডিংয়ে ত্রিশাল পৌরসভাসহ উপজেলার কোনাবাড়ী, ধানীখোলা ও বগার বাজার এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি তীব্র গরমে স্থানীয় ডেইরি ও পোল্ট্রি খাতের উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে ময়মনসিংহের আঞ্চলিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল করার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া বিদ্যুতের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।

