নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা সফরে অংশ না নিয়েও ভ্রমণ বিল উত্তোলন এবং ওবিই (OBE) কারিকুলাম সভায় অনুপস্থিত বহিঃস্থ সদস্যদের অনলাইনে উপস্থিত দেখিয়ে সম্মানী উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত চলছে।
জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফাইনাল ট্যুরে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য গত বছরের ২০ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় দিনের কর্তব্যরত ছুটি নেন মামুন মিয়া। ওই সময় তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা সফরে অংশ না নিলেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৭ হাজার ৩১৯ টাকা ভ্রমণ বিল উত্তোলন করেন।
শিক্ষা সফরে অংশ না নিয়েও ভ্রমণ বিল উত্তোলনের বিষয়টি বিভিন্ন নথিতে বিভাগের একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে উত্তোলন করা ভ্রমণ বিলের অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদকের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টর অ্যাকাউন্টস (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর আবেদন করে ১৭ হাজার ৩১৯ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে ফেরত দেওয়ার কথা জানান মামুন মিয়া। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, অসুস্থতার কারণে তিনি শিক্ষা সফরে অংশ নিতে পারেননি।
ওই আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা সফর শেষে ৫ মার্চ ২০২৫ অনুষ্ঠিত বিভাগের একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি ভ্রমণ ভাতা বাবদ ১৭ হাজার ৩১৯ টাকার বিল উপস্থাপন করেন। তার দাবি, ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল—তিনি ট্যুরে অংশগ্রহণ না করলেও তার বিল জমা দেওয়া হবে এবং শিক্ষা সফরে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের সঙ্গে অর্থ সমন্বয় করা হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে তিনি পরে ওই অর্থ ফেরত দিয়েছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করেন।
আবেদনটি ফরওয়ার্ড করেন বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. নাজমা বেগম।
তবে ৫ মার্চ ২০২৫ অনুষ্ঠিত একাডেমিক কমিটির সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই সভায় মামুন মিয়ার ট্যুরে অংশ না নিয়েও ভ্রমণ বিল পাওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং তিনি শিক্ষা সফরে অংশ না নেওয়ায় তার নামে বিল দেওয়া সমীচীন হবে না বলে সভায় মত দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে পরে আর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি বলে জানান তারা।
এদিকে, ডিরেক্টর অ্যাকাউন্টস বরাবর মামুন মিয়ার আবেদনটি ফরওয়ার্ড করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নাজমা বেগম জানান, তিনি মামুন মিয়ার রিফান্ড-সংক্রান্ত একটি চিঠি ফরওয়ার্ড করেছেন। তবে ট্যুরে অংশ না নিয়েও বিল উত্তোলন এবং সেই অর্থ অন্য শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে উল্লেখ থাকা কোনো চিঠি তিনি ফরওয়ার্ড করেননি বলে জানান।
মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে ১০ জুলাই ২০২৪ অনুষ্ঠিত ওবিই (OBE) কারিকুলাম সভা নিয়েও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সভায় দুইজন বহিঃস্থ সদস্য উপস্থিত না থাকলেও তাদের অনলাইনে উপস্থিত দেখিয়ে সম্মানী ভাতা উত্তোলন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছাত্র প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং একমাত্র উপস্থিত বহিঃস্থ সদস্যের বক্তব্যেও সেদিন কোনো বহিঃস্থ সদস্য অনলাইনে যুক্ত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে ১৫ অক্টোবর ২০২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন পরিসংখ্যান বিভাগে কর্মরত এক নারী কর্মকর্তা।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক মামুন মিয়া বলেন, “আমি এ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো মতামত দেব না।” এ বিষয়ে তিনি প্রতিবেদককে তদন্ত কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে ওবিই কারিকুলাম সভার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

