কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সিন্ডিকেটে দুই শিক্ষকের শাস্তি শিথিল এবং এক শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে একদল শিক্ষার্থী। প্রশাসনকে তারা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান মানববন্ধনে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে এই বিক্ষোভ পালিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলকালে শিক্ষার্থীরা ‘বাহ! প্রশাসন চমৎকার, নিপীড়কের পাহারাদার’, ‘শিক্ষক-নিপীড়ক, একসাথে চলে না’, ‘কুবিয়ানদের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘নিপীড়কের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
এ সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাদেকুর রহমান বলেন, শিক্ষক যখন রক্ষক থেকে ভক্ষক হয়ে যায় এবং তিনি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার শিক্ষকতাও করে, তখন এর পরিণতি সম্পর্কে আপনারা ধারণা করতে পারছেন। প্রশাসন বলে স্টুডেন্ট ফার্স্ট নীতি মেনে চলে, কিন্তু কোথায় সেই নীতি? শিক্ষার্থীদের হয়রানি শিক্ষকদের প্রশাসন আবার স্বপদে বহাল করার মাধ্যমে প্রশাসন নির্লজ্জতার প্রমাণ দিয়েছে।
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শোয়েব বলেন, প্রশাসন শুধু মুখেই বলে স্টুডেন্ট ফার্স্ট নীতি, বাস্তবে তারা শিক্ষার্থীদের হেনস্তাকারী ফার্স্ট নীতিতে বিশ্বাসী। উনাদের স্বপদে বহালের মধ্য দিয়ে প্রশাসন স্ব গ্রাসী আচরণ করছে। আমি দাবি জানায়, প্রশাসন যেন, তাদের আগের সিদ্ধান্তে ফিরে যায়।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজিদ আহমেদ বলেন, ফিন্যান্স বিভাগের জসিম উদ্দিনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরেও তাকে পুনর্বহাল করতে চাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে বলা আছে, কোন শিক্ষকের নৈতিক স্খলন ঘটলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে চাকুরিচ্যুত করতে হবে। কিন্তু প্রশাসন ন্যূনতম শাস্তিও প্রত্যাহার করেছে। নারী হেনস্তাকারীদের এই ক্যাম্পাসে কোন স্থান হবে না।
উল্লেখ্য, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সান্ধ্যকালীন কোর্সের এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন ও বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করার অভিযোগে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মো. আলী রেজওয়ান তালুকদারের পদাবনতির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে এবং তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে গিয়েও তিন শিক্ষার্থীকে নম্বর প্রদান ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর শাস্তিও সংশোধন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী দুই বছর তিনি কোন প্রকার পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
এছাড়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম. আনিছুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার উত্তরপত্র বিতরণের অভিযোগ সাময়িক অব্যাহতিতে থাকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তপ্রক্রিয়া যথারীতি চলবে।

