কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল এবং আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ৭জনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কথা বলে জানা, যায় এই বড় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় একটি ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে। বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে বাংলা বিভাগের হামিদুর রহমান এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মো: শাকিল ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তানভির হাসান সাকিবের সঙ্গে আইসিটি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আবিরের মধ্যে বাগবিতণ্ডা। বাগবিতণ্ডা বড় আকার ধারণ করলে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাকিব এবং আইসিটি বিভাগের আবিরকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়। এরপর প্রক্টরিয়াল বডি বিষয়টি সমাধান করে দেয়।
পরবর্তী এই ঘটনার সূত্রধরে ক্যাম্পাস গেটে মারামারি ঘটনা ঘটলে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়ে ডিপার্টমেন্টে পাঠানো হয়। এরপর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাল্টা ধাওয়া দিলে অপর পক্ষের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল এবং কাজী নজরুল ইসলাম হলে গিয়ে আশ্রয় নেন। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরাদের উপর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠি, বাঁশ দিয়ে হামলা শুরু করলে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের শিক্ষার্থীরা উপর থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ মারামারিতে জড়িয়ে পরে। এতে পুনরায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে উভয় পক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। একপর্যায়ে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস গেটে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ করে রাখেন এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আইসিটি বিভাগের আহত শিক্ষার্থী ইফতেখার আহমেদ সরকার বলেন, “যেহেতু প্রক্টর অফিসে সব সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে সেহেতু আমি আর সামিন ক্যাম্পাস গেইট যাই, বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে। সেখানে কয়েকজন আমাদের এক পাশে ডাকে এবং আমাদের এলোপাতাড়ি লাঠি দিয়ে মারতে থাকে। এ সময় সামিনের হাতের হাড় ভেঙ্গে যায় এবং আমরা দৌড়ে আমাদের বিভাগের দিকে যাই। ওইসময়ও তারা আমাদের ধাওয়া করছিল এবং এলোপাতাড়ি লাঠি দিয়ে আঘাত করছিল।”
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্য বলেন, আইসিটি বিভাগের ১৯ ব্যাচের একটা ছেলের সাথে ঝামেলা হয়েছিল, সেটা প্রক্টর স্যার সমাধান করে ফেলেছে। পরে ডিপার্টমেন্ট গিয়ে একসাথে হয়ে, ওরা আমাদেরকে ধাওয়া দিয়ে হলের ভিতর এসে মেরেছে। আমাদের ৬-৭ জন আহত হয়েছে। তারপর ওরা হলে ডাইনিং বয়, পাহারাদারকেও মেরেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের প্রধান ডা. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, ‘মারামারির ঘটনায় ১২জন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত একজন, তাকেসহ মোট সাতজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আমরা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের কথা শুনেছি। তারা আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের দোষারোপ করছে৷ বিষয়গুলো আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে। সেজন্য আমরা দুইটা কমিটি গঠন করব। প্রথমটা আইটি এক্সপার্টদের নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দোষীদের শনাক্ত করার জন্য, অন্যটি প্রক্টরিয়াল বডি এবং হল প্র্যক্ষদের সমন্বয়ে গঠিত হবে এবং তাদেরকে একটা সময় বেঁধে দিব। তাদের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে যারা দোষী বলে প্রমাণিত হবে, তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় আনব।

