শুনানি শেষে ঢাকার আদালত থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর।
গত বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) রাতে সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ (বিজি-৩৩৮) থেকে যাত্রীরা নামার পর ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দেওয়া। এতে লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
এ সময় ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে পরিস্থিতি দেখতে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান। সে তার প্রকাশ্যে হুমকি দেন।
গতকাল এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আখতারুজ্জামানের মুক্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান ১ অক্টোবর পবিত্র ওমরা পালন শেষে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার পর অন্যান্য যাত্রীর মতোই নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন।
আখতারুজ্জামানকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদেশ দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম। রিমান্ড বাতিল চেয়ে আখতারুজ্জামানের জামিনের আবেদন জানান আসামিপক্ষ।
আখতারুজ্জামান ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে নৌকার প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ২০২৪ সালেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পাননি।
দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

