ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র (ইউআইইউ) স্কুল অব লাইফ সায়েন্সেসের ফার্মেসি বিভাগের উদ্যোগে স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং ও সচেতনতা বিষয়ক কর্মশালা গতকাল ইউআইইউ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং চিকিৎসা পরবর্তী জীবন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।
কর্মশালায় সেশন স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জামান উম্মে হুমায়রা এবং ইউআইইউর ফার্মেসি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. তাহমিনা ফয়েজ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আমরা নারী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং আমরা নারী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জনাব জাহিদুর রহমান বিপ্লব।
ডা. জামান উম্মে হুমায়রা তাঁর বক্তব্যে স্তন ক্যানসারের সাধারণ লক্ষণ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অধ্যাপক ড. তাহমিনা ফয়েজ তাঁর বক্তব্যে ইউআইইউর ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড রিসার্চের (আইএআর) অর্থায়নে পরিচালিত স্তন ক্যানসারবিষয়ক গবেষণা প্রকল্প সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের গবেষণা স্তন ক্যানসার সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রসার এবং ভবিষ্যতে গবেষণাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্যানসার মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণা, তথ্যভিত্তিক উদ্যোগ এবং চিকিৎসক ও গবেষকদের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মশালায় স্তন ক্যানসার থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা একজন রোগী তাঁর চিকিৎসাযাত্রার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। রোগ শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপ, শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ এবং সেসব মোকাবিলা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। তাঁর বক্তব্যে রোগীর মানসিক দৃঢ়তা, পরিবারের সহযোগিতা এবং চিকিৎসার পুরো সময়জুড়ে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখার গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে।
জনাব জাহিদুর রহমান বিপ্লব তাঁর বক্তব্যে নারীস্বাস্থ্য ও স্তন ক্যানসার সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাঁদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও উদ্যোগ সম্পর্কে আলোকপাত করেন। পাশাপাশি স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তি, সুস্থ হয়ে ওঠা রোগী, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী এবং এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
এই কর্মশালা শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্তন ক্যানসার সম্পর্কে প্রচলিত সামাজিক ভীতি, ভুল ধারণা ও সংকোচ দূর করতে সহায়ক হবে। চিকিৎসক, গবেষক, রোগী এবং সামাজিক উদ্যোগের প্রতিনিধিদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মশালা স্তন ক্যানসার মোকাবিলায় সচেতনতা, সহমর্মিতা, গবেষণা এবং সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে।
উক্ত কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, গবেষক, স্তন ক্যানসার থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগী, নারীস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

