হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে নিষিদ্ধ নৌপথে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় নৌমাইনের আঘাতে চারটি তেল ট্যাঙ্কার ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার (৪ নভেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, বিস্ফোরণের পর ট্যাঙ্কারগুলোতে আগুন ধরে যায়। একই সঙ্গে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও দুটি জলযান আটক করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টায় হরমুজ প্রণালির ওপর একটি মার্কিন নির্মিত এমকিউ-৯ ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। বাহিনীটি এটিকে এ ধরনের ভূপাতিত হওয়া ৫৬তম বিমান হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আইআরজিসির নৌ ও মহাকাশ বাহিনী এসব অভিযান পরিচালনা করেছে। এতে শত্রুপক্ষের ওপর ‘ভারী আঘাত’ হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি ইরানি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনার মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতেই ট্যাঙ্কার ধ্বংস ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সামনে এসেছে।
সোমবার ইরান জানিয়েছিল, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বার্তা বিনিময় চলছে। দেশটির মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা ওয়াশিংটনের অবরোধ প্রত্যাহারের ওপর নির্ভর করছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। এর জবাবে তেহরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সম্পদ ও ইসরায়েলের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে সংঘাত অব্যাহত ছিল।
পরবর্তীতে ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

