কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলিতে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭)। তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়। এ তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ আভিযানিক দল বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মানবপাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেনাসদস্য তিতাস শেখ বাঁ কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ অভিযানে জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়।
নিহত তিতাস শেখের বাড়ি নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম আফজাল হোসেন। তিনি বিবাহিত ছিলেন। দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁর এমন মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার জানান, যৌথভাবে পাহাড়ে অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য তিতাস শেখ গুলিবিদ্ধ হন। পরে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তিতাসের মৃত্যুতে তার নিজ গ্রামসহ পুরো নগরকান্দা উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একজন দায়িত্বশীল সেনাসদস্য হিসেবে দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁর এই আত্মত্যাগ দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আজ শুক্রবার দুপুরে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের মামা ও লস্কারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার বলেন, ‘আমার ভাগিনা তিতাসের মরদেহ আজ বিকেলে বাড়িতে আনা হবে। এরপর জানাজার ও দাফনের সময় নির্ধারণ করা হবে। তিতাস অত্যন্ত ভদ্র ও নম্র স্বভাবের ছেলে ছিল। মাত্র কয়েক দিন আগে সে বিয়ে করেছে। নতুন সংসার শুরুর আগেই এভাবে তার চলে যাওয়া আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না

