নেত্রকোনার দুর্গাপুরে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে আনা ১৭টি ষাঁড়-বাছুরসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় গরু পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ও ভুয়া রশিদ বই জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে গতকাল শুক্রবার ভোরে বিরিশিরি-শ্যামগঞ্জ সড়কের উত্তরাইল বাজারে পুলিশ অভিযান চালায়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দুর্গাপুর উপজেলার ফুলপুর গ্রামের পারভেজ মিয়া (২৫), চারিখাল গ্রামের মো. হানিফ (৩০), পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর এলাকার রামপুর গ্রামের জাহিদ হাসান রাসেল (৩০), নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বীরকান্দি গ্রামের আফসার উদ্দিন (৩৪) এবং একই এলাকার ইয়াসিন মিয়া (২২)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে দয়ালবাড়ী এলাকায় ধাওয়া করে গরুবোঝাই পিকআপসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাজিরপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা জাহিদ হাসান রাসেলের সহযোগিতায় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে এনে নাজিরপুর বাজারের নামে ভুয়া খাস আদায়ের রশিদ ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় এসব গরু বিক্রি করে আসছিলেন।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, জব্দ করা ১৭টি ভারতীয় ষাঁড়-বাছুরের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া গরু পরিবহনে ব্যবহৃত কুষ্টিয়া-ন ১১-০০২৫ নম্বরের পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতীয় গরু সংগ্রহ, অবৈধভাবে সংরক্ষণ এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে জাল রশিদ ব্যবহারের অপরাধে থানায় মামলা করা হয়েছে। পরে আজ শনিবার দুপুরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলখানায় প্রেরণ করা হয়।

